মোঃ গোলাম মোর্শেদ (শিবলীঃ)

আমাদেরই প্রিয় মাতৃভূমিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোটি কোটি টাকা বিভিন্নভাবে তসরুপ হচ্ছে, কিন্তু যখন দেখি আমার এই প্রিয় মাতৃভূমিতে কোন ভাই কোন মা কোন বোন অথবা কারো বাবা চিকিৎসার অভাবে অনাদরে অনাহারে রাস্তায় পড়ে থেকে মৃত্যু বরণ করে, হয়ে যায় বেওয়ারিশ লাশ। কেউ পরিচয়টুকু দিতে চায়না। পরিবার থেকে এরা যেমন বঞ্চিত ঠিক তেমনই রাষ্ট্রের কাছ থেকেও এরা বঞ্চিত। অথচ আমাদের সংবিধানে অন্ন বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসা এগুলো সেবা রাষ্ট্রের দেওয়ার কথা স্পষ্ট বলা হয়েছে।কুরআনুল কারিমে সুরা আবাসায় মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘অতপর তিনি তার (মানুষের) মৃত্যু ঘটান ও কবরস্থ করেন তাকে।’ (আয়াত ২১) বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী, মুসলমান-অমুসলমান সবার শেষ ঠাঁই আল্লাহর সৃষ্ট এ মাটিতেই হয়। সব ধর্মীয় মতবিরোধ সত্ত্বেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জগতসমূহের একমাত্র প্রতিপালক হিসাবে সবাইকে সমানভাবে লালন-পালন করে থাকেন।
বিশ্বাসের বিরোধ থাকা সত্ত্বেও সবাইকে একই মেঘের পানি দিয়ে তিনি সিঞ্চিত করেন। সবাইকে তার সৃষ্ট সূর্য নিজের রোদ-তাপ সমান তালে দিয়ে থাকেন। একই মাঠে কাদামাটিতে সবাই চাষাবাদ করে সমানভাবে উপকৃত হয়। মহান আল্লাহর দয়া ও কৃপার এই সার্বজনিনতা মানুষকে, বিশেষ করে মুসলমানদের এ শিক্ষা দিচ্ছে যে, আমরাও যেন আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হয়ে সবার জন্য উদারতা প্রদর্শন করি।

বিশ্বনবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষকে সম্মান দিয়েছেন। ইসলামের ঘোরতর শত্রু ও কাফেরের লাশকেও তিনি সম্মান প্রদর্শন করেছেন এবং তার উম্মতকেও তা করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। হাদিসে এসেছে-

একবার হজরত সাহল ইবনে হুনাইফ ও কায়স ইবনে সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা কাদ্সিয়াতে বসা ছিলেন, তখন লোকেরা তাদের সামনে দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাচ্ছিল। তা দেখে তারা দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাদের বলা হল, এটা এ দেশীয় অমুসলিম জিম্মী ব্যক্তির জানাযা। তখন তারা (দুই সাহাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, ‘একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে দিয়েও একটি জানাজা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাকে বলা হয়েছিল, এটা তো এক ইহুদির জানাজা। প্রিয় নবি ইরশাদ করেছিলেন- সে কি একজন মানুষ নয়?’ (বুখারি)

তাই সাধারণ কোনো লাশ বা কোনো নিষ্পাপ শিশুর লাশ তো দূরের কথা, ঘোরতর শত্রু কাফের ইয়াহুদির লাশের প্রতিও আমাদের প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্মান প্রদর্শন করেছেন। শুধু তা-ই নয় তার দীক্ষায় দীক্ষিত নক্ষত্রতুল্য সাহাবারাও একই আচরণ করে দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত ব্যক্তির শুধু সম্মান প্রদর্শনই করেন নি বরং মৃতদের গালমন্দ, লাশের অসম্মান, তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করাকে গোনাহর কাজ বলে উল্লেখ করেছেন। হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমরা মৃতদের গালমন্দ কোরো না, তারা যা করেছে তারা তা পেয়েছে।’ (বুখারি)

আমাদের দেশে একটি রেওয়াজ আছে মরণোত্তর সম্মান, মৃত মানুষের জন্য শেষ আশ্রয়স্থল (আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম) আজকে যখন বেওয়ারিশের/কণ্ঠস্বর প্রিয় শওকত হোসেন ভাই মৃত লাশকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পাশে ব্রিফিং করছিলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে, তখন হৃদয়ের মধ্যে এক কষ্ট আমাকে মার্সিটি নিয়ে যেন লিখতে বলল তাই লিখছি, প্রিয় ভাই বলছিলেন কয়েকদিন আগেই মৃত ব্যক্তি কে সে নিজ দায়িত্বে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। চিকিৎসা খরচ ও তিনি চালাচ্ছিলেন, কিন্তু কে বা কারা আবার তাকে রাস্তায় ড্রেনের ধারে ফেলে রেখে যায়। তার ব্রিফিং আত্মনাদ, বিস্তারিত আলোচনা করতে পারছিনা। শুধু এতোটুকুই বলছি সত্যিই আমরা মানুষ নামের কলঙ্ক, আমি কাউকে কষ্ট দেবার জন্য এ কথাগুলো বলছি না, এই লেখা লিখছি না। মানবিক যে দায় বদ্ধতা আমাদের আছে এর জন্য আল্লাহর কাছে কি জবাব দেবো আমরা বলতে পারেন কি? আমি শওকত ভাইয়ের সুরে সুর মিলিয়ে বলবো “কারো নিকট কোন চাওয়া নেই শুধু মহান আল্লাহর নিকট একটি চাওয়া বাংলাদেশে একটি বেওয়ারিশ হাসপাতাল হোক”শ্রেষ্ঠনবির উম্মত হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব শ্রেষ্ঠনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অতুলনীয় জীবনাদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করা। একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের দ্বারা এমন কোনো কাজ যেন সংঘঠিত না হয় যার ফলে ইসলাম এবং বিশ্বননবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বদনাম হবে।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সঠিক ইসলামের শিক্ষার আলোকে জীবন গড়ার এবং ইসলামি জিন্দেগী যাপন করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।