জামিন পাওয়ার অধিকার আছে পরীমণির : জাফরুল্লাহগণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আপনি (প্রধানমন্ত্রী) দেশে মদ আনার অনুমতি দিয়েছেন। সেই মদ পরীমণির বাসায় পাওয়া গেছে। এখন মদের মামলার জামিন নিয়ে টালবাহানা হচ্ছে। আমি বলছি, পরীমণির জামিন পাওয়ার অধিকার আছে, তাকে জামিন দিতে হবে। রোববার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরামের এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। দলটির ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে পরীমণি জেলে আটকা পড়ে আছে। আপনি বলেছিলেন, সেখানে হস্তক্ষেপের অধিকার আপনার নেই। অথচ আজকে আপনারা পরীমণির বিচার দ্রুত করার আদেশ দিলেন। আপনাদের এ চরিত্রহীনতা জনগণ মনে রাখবে। মনে রাখবেন এক দিন আপনাদের বিচার হবে, সেই বিচার হবে রাজপথে, লুকিয়েও পালাতে পারবেন না। এসব অন্যায় যেসব বিচারপতিরা করেছিলেন তারা লুঙ্গি পরে পালিয়ে গিয়েছিলেন। আপনি পালাতেও পারবেন না, লুঙ্গিও থাকবে না। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, আজকে এ সভায় এসে আমি যেমন আনন্দিত, তেমনি দুঃখিতও বটে। কারণ আজকে আমি এখানে মন্টুকে দেখছি না, সুব্রতকে দেখছি না, অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে দেখছি না। ড. কামাল হোসেন অনেক বড় মাপের নেতা। আমি আপনাকে অনুরোধ করব, আপনি সবার দোষ ভুলে যান, ভুলভ্রান্তি ভুলে যান। আপনিই আমাদের একমাত্র জীবিত নেতা। সবাইকে ডেকে, আলোচনা করুন, তা না হলে আমাদের বৃহত্তর ঐক্য হবে না। গত বছর অক্টোবরে বিভক্তি দেখা দেয় গণফোরামে। দলের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যান দলটি নেতাকর্মীরা। এর পর নানা নাটকীয়তায় সর্বশেষ ফের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বলেন তারা। তবে বিভক্তি এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি গণফোরামের নেতারা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্ব রাজনীতিতে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, অনেক দিন তো ক্ষমতা দখল করে রাখলেন, ক্ষমতায় থাকলেন। এখন আপনার সময় এসেছে, ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার। একটা জাতীয় সরকার করার, ড. কামাল হোসেনকে তার প্রধান করেন। আপনার দল থেকে রেহানাকে আনেন, মতিয়া চৌধুরী ও তোফায়েলকে আনেন। সব দল নিয়ে ২ বছরে জন্য কাজ করেন। আজকে যদি এটা করা না হয় তাহলে দেশের ভাগ্য ভালো হবে না।তিনি বলেন, আপনার (প্রধানমন্ত্রী) কাজ হবে বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে কাজ করার। তুরস্ক থেকে কাজ শুরু করেন। পাকিস্তানে যান, গিয়ে তাদের বলেন তোমরা যে অন্যায় করেছিলে তার জন্য ক্ষমা চাও। কারণ আজকে আমাদের স্থান হওয়া দরকার চীনের পাশে, আমেরিকার পাশে কিন্তু ভারতের পেছনে নয়। আপনি সেই দায়িত্বে যান। মানুষকে নিয়ে সেটা করেন। সভায় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমি তো আওয়ামী লীগ করতাম। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী ছিলাম। কিন্তু আমার নিজের কাছেই মনে হয়েছে, যেই দল গণতন্ত্রের জন্য এত সংগ্রাম করল তারাই যখন কেলেঙ্কারি করে আর যাই হোক সেখানে থাকা সম্ভব হবে না। এমনকি ওই দলের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব ছিল, এ কথা বলতেও আমার লজ্জা লাগে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অনেকে আমার কাছে জানতে চায় কী কারণে এ দল করতেন? আমি বলি, ভাই একসময় এই দলটা তো অনেক ভালো ছিল। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত এই ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশ পরিষ্কার হবে না।